
আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা। আলোর রোশনাই, ধর্মীয় আচার এবং ভক্তির আবহে সেজে উঠেছে উদয়পুরের ঐতিহাসিক মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির। আগামী ৮ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে তিনদিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মাতাবাড়ির দীপাবলি উৎসব ও মেলা। প্রায় ১০ লক্ষ পুণ্যার্থীর সমাগমের প্রত্যাশায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি।উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব মাতাবাড়ির দীপাবলি উৎসব ও মেলাকে ঘিরে এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি উদয়পুরের ঐতিহাসিক মাতা ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির প্রাঙ্গণে। আগামী ৮ থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে এই উৎসব। রবিবার সন্ধ্যায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডা. মানিক সাহা কল্যাণ সাগরের পাড়ে কল্যাণ আরতিতে অংশগ্রহণ করবেন। পরবর্তীতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উৎসব ও মেলার উদ্বোধন করবেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে এই তথ্য জানান উৎসব ও মেলা কমিটির চেয়ারম্যান তথা বিধায়ক অভিষেক দেবরায়। এবারের উৎসবে প্রায় ১০ লক্ষ ভক্ত-পুণ্যার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি থাকছে আধুনিক বিনোদনের বিশেষ আকর্ষণ ড্রোন শো। রাজ্য ও বহিঃরাজ্যের দুই হাজারেরও বেশি শিল্পীর অংশগ্রহণে তিনদিন ধরে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া কাশী থেকে আগত পুরোহিত ও পণ্ডিতদের দ্বারা আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ মঙ্গল আরতি। কাঁচা ফুলের সাজে সজ্জিত করা হয়েছে মন্দিরকে। পাশাপাশি মন্দির চত্বর থেকে সুভাষ সেতু পর্যন্ত থাকছে বর্ণাঢ্য আলোকসজ্জা। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে পানীয় জল ও শৌচাগারের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। অন্যদিকে বিপুল জনসমাগমের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে প্রশাসন। বিধায়ক অভিষেক দেবরায় জানান, ভিড় নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৮০০ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। মন্দিরে প্রবেশ ও বহির্গমনের জন্য রাখা হয়েছে পৃথক পথ। পাশাপাশি মোতায়েন থাকবে পর্যাপ্ত টিএসআর, পুলিশ বাহিনী ও কুইক রেসপন্স টিম। জেলা পুলিশ সুপার অনির্বাণ দাস জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ওয়াচ টাওয়ার, কমান্ড পোস্ট, পুলিশ বুথ এবং সিসিটিভি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গোমতী জেলা পরিষদের সভাধিপতি দেবল দেবরায়, জেলাশাসক রিঙ্কু লাথেরসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।