ত্রিপুরা
img

প্রাকৃতিক চাষে নতুন দিশা দেখাচ্ছে যুবরাজনগর গোমূত্র গোবরেই তৈরি জৈব সার, মাত্র ৯ টাকায় বিক্রি

রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে বিষমুক্ত কৃষি উৎপাদনের লক্ষ্যে নতুন উদ্যোগ উত্তর ত্রিপুরার যুবরাজনগরে। গোমূত্র, গোবর ও বিভিন্ন ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রাকৃতিক সার ও জৈব কীটনাশক। কৃষি দপ্তরের এই উদ্যোগে একদিকে যেমন উপকৃত হচ্ছেন কৃষকরা, তেমনই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের আশাও দেখছেন সাধারণ মানুষ।রাসায়নিকমুক্ত কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে যুবরাজনগর কৃষি মহকুমায় জোরকদমে এগিয়ে চলেছে প্রাকৃতিক চাষাবাদ। বর্তমানে মহকুমার সাতটি ক্লাস্টারে মোট ৩৫০ হেক্টর জমিতে চলছে এই পরিবেশবান্ধব কৃষিকাজ। চলতি বছর পশ্চিম দেওয়ানপাশা ক্লাস্টারে ১২৫ জন কৃষককে নিয়ে শুরু হয়েছে বিশেষ এই উদ্যোগ। এর অন্যতম আকর্ষণ পশ্চিম দেওয়ানপাশা গ্রামের বায়ো-ইনপুট রিসোর্স সেন্টার। এখানে স্থানীয় স্বনির্ভর দলের মহিলারা গোমূত্র, গোবর এবং নিম, আম, আতা ও করঞ্জা গাছের পাতা ব্যবহার করে তৈরি করছেন নিমাস্ত্র, ব্রহ্মাস্ত্র, অগ্ন্যাস্ত্র, জীবামৃত ও বীজামৃতের মতো প্রাকৃতিক সার ও কীটনাশক। কেন্দ্রটি পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মেগা স্বনির্ভর দলকে সরকারি তরফে দেওয়া হয়েছে এক লক্ষ টাকা আর্থিক অনুদান। মাত্র ৯ টাকা প্রতি লিটার ভর্তুকিযুক্ত দামে কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে উৎপাদিত জৈব উপাদান। ইতিমধ্যেই পশ্চিম দেওয়ানপাশার ১২৫ জন নিবন্ধিত কৃষকসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার চাষিরাও এগুলি ব্যবহার করছেন। এই কাজে যুক্ত হয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন স্বনির্ভর দলের সদস্যারাও। অন্যদিকে, মাটির উর্বরতা ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে কৃত্রিম পলিমালচিংয়ের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে শুকনো পাতা, খড় ও পচনশীল জৈব আবর্জনা। উৎপাদিত ফসলের গুণমান নিশ্চিত করতে নিয়মিত মাটি পরীক্ষা ও সার্টিফিকেশনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর বালিদুম, মধুবন ও জইথাং ক্লাস্টারের ৩৭৫ জন কৃষক প্রাকৃতিক চাষে যুক্ত হয়ে সাফল্য পেয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখেই এবছর আরও বিস্তৃত হচ্ছে এই উদ্যোগ। কৃষি দপ্তরের লক্ষ্য, যুবরাজনগরের প্রতিটি গাঁওসভায় প্রাকৃতিক চাষ ছড়িয়ে দিয়ে গোটা মহকুমাকে রাসায়নিকমুক্ত মডেল কৃষি অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা।