ত্রিপুরা
img

সাইবার প্রতারণায় দিশেহারা মানুষ: ইউপিআইয়ের ফাঁদে উধাও লক্ষ লক্ষ টাকা

গত এক মাসে ত্রিপুরার বিভিন্ন প্রান্তে একের পর এক সাইবার প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সংবাদমাধ্যম দৈনিক সংগ্রামে এসেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে প্রতারকদের পক্ষ থেকে কোনো ব্যক্তির ইউপিআই অ্যাকাউন্টে ১ টাকা, ৫ টাকা, ১০ টাকা কিংবা ১০০ টাকা পাঠানো হচ্ছে। এরপর সেই টাকা কোথা থেকে এসেছে তা দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জিপে (GPay), পেটিএম (Paytm) বা অন্য কোনো পেমেন্ট অ্যাপ খুললেই ঘটছে বিপত্তি। অ্যাপ খোলার পরপরই সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে এবং একই অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিকবার টাকা তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সবথেকে বিপজ্জনক বিষয় হলো, সমস্ত টাকা কাটা হচ্ছে ইউপিআই-এর মাধ্যমে। এই প্রতারণার নেপথ্যে বিভিন্ন রাজ্যে বসে থাকা সাইবার অপরাধীদের যোগসূত্র রয়েছে। সম্প্রতি বিশালের এক ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে ৬টি লেনদেনের মাধ্যমে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া দক্ষিণ জেলা এবং খোয়াইয়ের পূর্ব রামচন্দ্রঘাট এলাকার সুকান্ত সরকার ও অন্যান্য ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট থেকেও হাজার হাজার টাকা উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ডিজিটাল যুগে দৈনন্দিন লেনদেন থেকে শুরু করে বহিরাজ্যে পড়াশোনা করা ছেলে-মেয়েদের কাছে টাকা পাঠানো—সবকিছুতেই ইউপিআই নির্ভরতা বাড়ার কারণে এই প্রতারণা বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুক্তভোগীরা সাইবার ক্রাইম শাখায় জানালেও, প্রতারকরা দ্রুত এক অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য অ্যাকাউন্টে টাকা সরিয়ে ফেলায় তদন্তকারী সংস্থা টাকা হোল্ড করার আগেই অর্থ অন্যত্র চলে যাচ্ছে। ফলে টাকা উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একের পর এক সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ এভাবে উধাও হয়ে যাওয়ায় প্রশ্ন উঠছে ডিজিটাল লেনদেনের নিরাপত্তা নিয়ে। সাইবার অপরাধ দমনে আরও কার্যকরী ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছে সচেতন মহল। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ সম্পর্কে প্রতিটি মানুষকে সচেতন হওয়া এবং প্রশাসনকে আরও কঠোর ও শক্তিশালী হওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে