ত্রিপুরা
img

কমলপুরে বিধায়কের বাড়িতে হামলা, চরমে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব

ক্ষমতার দ্বন্দ্বে এবার উত্তপ্ত ত্রিপুরা রাজ্য রাজনীতি। প্রকাশ্যে চলে এল ক্ষমতাসীন দলের চরম অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। নিজেদের বিধায়কের বাড়িতেই হামলা থেকে শুরু করে মামলা-পাল্টা মামলা—কী ঘটেছিল ঠিক কমলপুরে? কেনই বা চরম নড়বড়ে জায়গায় গিয়ে দাঁড়াল দলীয় শৃঙ্খলা? এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে আজকের ‘দৈনিক সংগ্রাম’ পত্রিকায়। ত্রিপুরার শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গোষ্ঠীস্বার্থের নগ্ন রূপ এবার প্রকাশ্যে এল কমলপুর মহকুমায়। একে অপরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মারমুখী হয়ে ওঠা এবং বিধায়কের বাড়িতে সরাসরি হামলা চালানোর ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে এলাকা জুড়ে।ঘটনার সূত্রপাত ২৭ আগস্ট রাতে। কমলপুরের বিধায়ক মনোজ কান্তি দেব যখন বিধানসভা অধিবেশনের কাজে আগরতলায় অবস্থান করছিলেন, ঠিক তখনই বিজেপি মণ্ডল সভাপতি শম্পা দাসের নেতৃত্বে একদল উশৃঙ্খল যুবক বিধায়কের বাসভবনে চড়াও হয়। বিধায়কের অনুপস্থিতিতে তাঁর পরিবারের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং প্রকাশ্যে বিধায়কের ভাইয়ের গলা টিপে ধরার মতো নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে।অনুসন্ধানে জানা গেছে, একটি ফেসবুক চ্যানেলে অতীতে প্রকাশিত মণ্ডল সভাপতির পুরোনো ভিডিও ফুটেজ বিধায়কের ভাই শশাঙ্ক শেখর দেব পুনরায় প্রকাশ করায় এই ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে। তবে রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রকাশের পথ হিসেবে তারা বেছে নেয় চরম সন্ত্রাসী পথ। বুড়ো আঙুল দেখানো হয় ন্যূনতম রাজনৈতিক শিষ্টাচারকেও।একসময় যারা দলের অনুশাসন ও আদর্শের কথা বলতেন, আজ ক্ষমতার লোভ ও গোষ্ঠীকেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে তাঁদের সেই মুখোশ খুলে পড়েছে। বিধায়কের বাসভবনে শরীরী হামলা ও পরবর্তীতে মামলা-পাল্টা মামলার এই নাটকীয় পরিস্থিতি শাসকদলের ভেতরকার কঙ্কালসার অবস্থাকেই জনসমক্ষে উন্মোচিত করে দিল।