
ত্রিপুরার প্রত্যন্ত গ্রামের মেয়ে, আর আজ গোটা দেশের গর্ব। কমনওয়েলথ গেমসে জুডোর ৪৮ কেজি বিভাগে স্বর্ণপদক জিতে ইতিহাস গড়লেন দক্ষিণ ত্রিপুরার অস্মিতা দে। শুধু ভারতের প্রথম স্বর্ণই নয়, জুডোতে প্রথম বাঙালি হিসেবে কমনওয়েলথে সোনা জয়ের নজিরও গড়েছেন তিনি। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে অনুষ্ঠিত ২৩তম কমনওয়েলথ গেমসে মহিলাদের ৪৮ কেজি জুডো বিভাগে দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর "গোল্ডেন স্কোর"-এ কানাডার প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে স্বর্ণপদক জিতে নিলেন ত্রিপুরার কন্যা অস্মিতা দে। এই জয়ের মাধ্যমে ভারতের ঝুলিতে এল জুডোতে প্রথম স্বর্ণপদক। পাশাপাশি কমনওয়েলথ গেমসে জুডোতে স্বর্ণজয়ী প্রথম বাঙালি হিসেবেও ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়ে ফেললেন তিনি।বর্তমানে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর হিসেবে কর্মরত অস্মিতা দে। কর্মসূত্রে উত্তরপ্রদেশে থাকলেও তাঁর শিকড় দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়া মহকুমার দক্ষিণ সোনাইছড়ি গ্রামে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে সবচেয়ে ছোট মেয়ে অস্মিতা ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছেন। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরেই আজ তিনি বিশ্বমঞ্চে ভারতের পতাকা উড়িয়েছেন। এই ঐতিহাসিক স্বর্ণপদক তিনি উৎসর্গ করেছেন তাঁর প্রয়াত বাবা অর্জুন দে-কে। বাবার স্মৃতিতে আবেগাপ্লুত অস্মিতার চোখের জল ছুঁয়ে গেছে কোটি ভারতবাসীর হৃদয়। ত্রিপুরা থেকে শুরু করে সারা দেশ জুড়ে তাঁর এই ঐতিহাসিক জয়কে ঘিরে চলছে অভিনন্দনের বন্যা।