
সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল ও সম্মানজনক পেশা। কিন্তু সেই পরিচয় বা প্রেসকার্ড যদি অপরাধের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে শুধু আইনই লঙ্ঘিত হয় না—কলঙ্কিত হয় গোটা সাংবাদিক সমাজ। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, কিছু অসাধু ব্যক্তি প্রেসকার্ডের আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। সেই অভিযোগকে নতুন করে উসকে দিল ধলাই জেলার গঙ্গানগর থানায় পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযান।
নিয়মিত নাকা চেকিং চলাকালীন সন্দেহের ভিত্তিতে TR-01 BQ-0551 নম্বরের একটি মহিন্দ্রা মারাজো গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালায় গঙ্গানগর থানার পুলিশ। তল্লাশিতে গাড়ির ভেতরে অত্যন্ত কৌশলে তৈরি একটি গোপন চেম্বার থেকে উদ্ধার হয় ৮৬টি প্যাকেটে মোট ৮১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ লক্ষ টাকারও বেশি।
ঘটনায় গাড়ির চালক অনিমেষ দেব, বাড়ি খোয়াই জেলার লালছড়া এলাকায়, তাকে আটক করা হয়েছে। তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে একটি প্রেসকার্ড উদ্ধার হয়। এছাড়াও গাড়ি থেকে তিনটি ভিন্ন নম্বর প্লেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রেসকার্ডটি আসল নাকি ভুয়া, কিংবা কীভাবে তা তার কাছে এসেছে এবং কোনো অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী দল।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চাকমাঘাট হয়ে গঙ্গানগর অতিক্রম করে আমবাসার দিক দিয়ে গাঁজার চালানটি বহিঃরাজ্যে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে গঙ্গানগর থানার নাকা চেকিংয়ে পুলিশের তৎপরতায় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
মহকুমা পুলিশ আধিকারিক নিরুপম দত্ত জানান, গাড়ির ভেতরে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি গোপন চেম্বারে মাদক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই পাচারচক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, কোথা থেকে মাদক আনা হচ্ছিল এবং কোথায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল—সেসব তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় গঙ্গানগর থানায় মামলা নং ০৫/২০২৬, ধারা ২৯(সি)/২৫, এনডিপিএস অ্যাক্ট অনুযায়ী মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তভার দেওয়া হয়েছে তদন্তকারী অফিসার স্বপন দেব্বর্মাকে। রবিবার অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার তদন্তে মহকুমা পুলিশ আধিকারিক নিরুপম দত্ত ও গঙ্গানগর থানার ওসি গৌতম দেব্বর্মা নিবিড়ভাবে নজরদারি করছেন।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রকৃত সাংবাদিকদের দাবি, কেউ যদি প্রেসকার্ড বা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কারণ একজনের অপরাধের দায় কখনোই পুরো সাংবাদিক সমাজ বহন করতে পারে না। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রেসকার্ডটির সত্যতা এবং অভিযুক্তের পরিচয় সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।