
আর জি কর কাণ্ডে নাম জড়ানো চিকিৎসক ডা. বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এবার বড় পদক্ষেপ নিল পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্যদপ্তর। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের প্যাথোলজি বিভাগের প্রাক্তন সিনিয়র রেসিডেন্ট বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের চাকরি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ইনডেমনিটি বন্ডের শর্ত অনুযায়ী তাঁকে ২০ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্যভবনের তরফে জারি হওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ওঠা অসদাচরণ, একাধিক ফৌজদারি মামলা, এফআইআর এবং এসিবি তদন্তের রিপোর্ট খতিয়ে দেখে অভিযোগগুলির সত্যতা মিলেছে। এরপরই তাঁর সিনিয়র রেসিডেন্টশিপ স্থায়ীভাবে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় স্বাস্থ্যদপ্তর। গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর থেকেই তিনি সাসপেন্ড ছিলেন। এবার সেই সাসপেনশনকে স্থায়ী চাকরি বাতিলের সিদ্ধান্তে রূপ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দিনে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার কোনও চাকরিতেও তিনি যোগ দিতে পারবেন না বলে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সিলকেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে, স্বাস্থ্যদপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন চিকিৎসক মহলের একাংশ। বর্ধমানের একাধিক চিকিৎসকের মতে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘থ্রেট কালচার’ বা প্রভাব খাটানোর রাজনীতির বিরুদ্ধে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। অন্যদিকে, বিরূপাক্ষ বিশ্বাস সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, তিনি সরকারি নির্দেশ মেনে চলবেন। তবে এই বিষয়ে আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি। উল্লেখ্য, আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় তদন্ত চলাকালীন বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের নাম উঠে আসে। পাশাপাশি মেডিক্যালে ভর্তি করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই সব অভিযোগ ও তদন্তের প্রেক্ষিতেই এবার কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হল বলে মনে করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ‘নো টলারেন্স’ নীতির বার্তা দিতে কি উদাহরণ তৈরি করল স্বাস্থ্যদপ্তর? বিরূপাক্ষ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এই কড়া পদক্ষেপ ঘিরে এখন জোর চর্চা রাজ্যজুড়ে।