
১৯৫১ সাল থেকে রাজ্যের প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়ার কাজে নিযুক্ত ছিলেন কমিউনিটি হেলথ গাইডরা । ৫০ টাকা থেকে তাদের সান্মানিক বার্তা শুরু হয়। বর্তমানে তা বাড়তে বাড়তে ৭৫০০ টাকায় এসে পৌঁছেছে ।এই কমিউনিটি হেলথ গাইডরা আন্ত্রিক ,টিবি, পালস পোলিও ,গর্ভবতী মায়েদের হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণের কাজ করতেন ।তাদের চাকরির ধরন ছিল যতদিন পর্যন্ত তারা জীবিত থাকবেন ততদিন ধরে এই কাজের সুবাদে মাসোহারা পেয়ে যাবেন ।রাজ্যে প্রথমে তারা সংখ্যায় ছিলেন ৩ হাজার জন।এখন কমতে কমতে এই সংখ্যা ৭৩০-এ এসে দাড়িয়েছে।কিন্তু হঠাৎ করে গত নভেম্বর মাসে কোন কিছু আগাম না জানিয়েই কমিউনিটি হেলথ গাইডের চাকরি থেকে ছাটাইয়ের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। বর্তমানে তারা সান্মানিক ভাতা পাচ্ছেন না ।সম্প্রতি ছাটাই এর সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে এই বয়স্ক কমিউনিটি হেলথ গাইডদের একাংশ মুখ্যমন্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির সামনে আসেন ।তাদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেওয়া হয় ।এরপর রবিবার চাকরিচ্যুত কমিউনিটি হেলথ গাইডরা সমবেতভাবে সাংবাদিক সম্মেলনের আয়োজন করেন ।সাংবাদিক সম্মেলনে তারা জানান ,এখন তাদের বয়স হয়ে গেছে। তারপরও তারা যতটা কাজ পারছেন ততটা করছেন। কাজের বিনিময়ে মাসোহারা পেয়ে ভালোভাবেই জীবন যাপন করছিলেন তারা ।হঠাৎ করে ছাটাইয়ের সিদ্ধান্তে তারা বিচলিত হয়ে পড়েন ।সাংবাদিক সম্মেলনে তারা দাবি করেন ,তাদের অবিলম্বে কাজে পুনর্বহাল করতে হবে ,নতুবা এককালীন ১০ লক্ষ টাকা করে প্রদান করতে হবে ।এদিন মুখ্যমন্ত্রীর নিকট এই দাবি জানান তারা। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে অনেক মহিলারাই সরকারের এই সিদ্ধান্তে কেঁদে ফেলেন। তারা জানান ,বয়সের ভারে তারা নুয্য। মাসে মাসে যা পেতেন তা দিয়েই তারা খাওয়া-দাওয়া এবং ওষুধপত্রের ব্যবস্থা করতেন। এই সান্মানিক ভাতা পান বলে তাদের বয়স্ক ভাতার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত করে রাখা হয় ।এই অবস্থায় গোটা বিষয়গুলি বিবেচনা করে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর নিকট কাতর আবেদন জানান তারা।