ত্রিপুরা খবর
img

গৃহবধুকে পুড়িয়ে মারল স্বামী-দেবর!

তখনও শেষের শ্বাস-নিঃশ্বাস নিচ্ছিল গৃহবধূটি। তড়িঘড়ি করে তারাই গৃহবধূকে নিয়ে যায় হাসপাতালে। আশঙ্কা  জনক অবস্থায় জিবিপি হাসপাতালে নিয়ে যেতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে গৃহবধূ। রোমহর্ষক এই ঘটনা মঙ্গলবার ভোররাতে বিশালগড় থানার অন্তর্গত পরিমল চৌমুহনির ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায়। নিহতের নাম মন্টি দেবনাথ (২০)। অভিযোগের তীর স্বামী চন্দন দেবনাথ (২৮), দেবর গৌরাঙ্গ দেবনাথ ( ২৪) শশুর গীতিশ দেবনাথের (৫৭) দিকে। জানা গেছে গত তিন বছর পূর্বে কলমচৌওড়া থানার অন্তর্গত মানিক্যনগরের জনৈক কাজল দেবনাথের মেয়ে দেবনাথের সঙ্গে হিন্দু শাস্ত্রীয় মতে সামাজিকভাবে বিয়ে হয়েছিল পরিমল চৌমুহনীর গীতিস দেবনাথের ছেলে চন্দন দেবনাথের। বিয়ের সময় ছেলে পক্ষের চাহিদা অনুসারে নগদ অর্থ, সোনাদানা সহ কাঠের আসবাবপত্র সব মিটিয়ে দিয়েছিল মেয়ে পক্ষ। বিয়ের পর তাদের সংসার কয়েক মাস ভালয় ভালয় কাটলেও এর পরেই শুরু হয় অশান্তি। দেড় বছরের মাথায় একটি সন্তান জন্ম হওয়ার পর গৃহবধু মন্টির কপালে নেমে আসে কালো ছায়া। মদ্যপ স্বামী প্রায়শই মন্টিকে বাপের বাড়ি থেকে আরো টাকা এনে দেবার চাপ দিত। মেয়ের সুখের কথা ভেবে ২-৩ ধাপে ৬০ হাজার টাকা দিয়েছিল পিতা কাজল দেবনাথ। এরপর সংসার কিছুদিন ভালো কাটলেও মন্টির দিকে নজর পড়ে অশুভ শক্তির। অভিযোগ দেবর গৌরাঙ্গ নিত্যদিনই তাকে জ্বালাতন করত। বড় ভাইয়ের অবর্তমানে বিভিন্ন সময়ে বৌদিকে কু প্রস্তাব দিত দেবর গৌরাঙ্গ। বিষয়টি মনটি তার স্বামীকে জানাতেই সংসারে দেখা দেয় আরও চরম অশান্তি। স্বামী চন্দন মধ্যপ অবস্থায় প্রায় রাতে স্ত্রী মন্ত্রীকে ছোট ভাই গৌরাঙ্গের সঙ্গে রাত কাটানোর জন্য মারামারি করত। গৌরাঙ্গ সুযোগ বুঝে ভাইকে প্রভাবিত করত। গেল দুই সপ্তাহ ধরে স্বামী দেবরের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছিল গৃহবধূ মন্টি। অবশেষে তীরে এসে তরী ডুবল মন্টির। স্বামীর বাড়ির যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সন্তান নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাবে। যাবার  আগের রাতেই নরপশুরা খাটে বেঁধে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিল তাকে।
এদিকে জিবিপি হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর মৃতার কাটা ছেঁড়া দেহ তুলে দেওয়া হয় তার বাপের বাড়ির লোকজনদের হাতে। ঘটনায় বিভাগ মহিলা থানায় অভিযুক্ত স্বামী দেবর এবং শশুর নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে মৃতার বাপের বাড়ির পক্ষ থেকে।