
আসন্ন এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচনকে ঘিরে বিজেপি ও তিপ্রা মথার জোট-সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। "জোট নয়, তিপ্রাসাই আগে"—সামাজিক মাধ্যমে তিপ্রা মথার প্রধান প্রদ্যোৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মণের এই বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। দৈনিক সংবাদ (বা দৈনিক সংগ্রাম) পত্রিকায় প্রকাশিত এই সংবাদের বিস্তারিত নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন। এডিসি ভিলেজ কমিটি নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই জটিল হয়ে উঠছে ক্ষমতাসীন জোটের অন্দরমহলের হিসাব-নিকাশ। গতকাল রাতে সামাজিক মাধ্যমে তিপ্রা মথার প্রধান প্রদ্যোৎ কিশোর মানিক্য দেববর্মণের একটি বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে চরম চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। প্রদ্যোৎ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিপ্রাসা জনগণের স্বার্থরক্ষায় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে তিনি পিছপা হবেন না—এমনকি এর জন্য যদি দলের কিছু নির্বাচিত প্রতিনিধি দূরে সরে যান বা দল সাংগঠনিক ধাক্কা খায়, তবুও নয়।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্য নিছকই কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বার্তা নয়। ৫৮৭টি ভিলেজ কমিটিতে কীভাবে দুই দল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে, আসন সমঝোতা কী হবে এবং ত্রিপক্ষীয় চুক্তির বাস্তবায়ন কতটা নিশ্চিত হবে—এই বিষয়গুলি নিয়ে বিজেপির সাথে একাধিক বৈঠক হলেও এখনও কোনো চূড়ান্ত সমাধান বের হয়নি।গত ১০ ও ১১ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ এবং দিল্লিতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সাথে বৈঠকের পরও নিজের আগের অবস্থান থেকে সরেননি প্রদ্যোৎ। তাঁর সাম্প্রতিক একাধিক বার্তা এটাই প্রমাণ করে যে, দৃশ্যমান অগ্রগতি ও তিপ্রাসা জনগণের অধিকার সুনিশ্চিত না হলে কোনো প্রকার রাজনৈতিক পদ বা মন্ত্রিত্বের বিনিময়ে আপস করতে রাজি নয় তিপ্রা মথা।ভিলেজ কমিটি ভোটের মুখে জোট সঙ্গীর এই কঠোর অবস্থান এখন শাসক শিবিরের ওপর তৈরি করেছে বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ।