ত্রিপুরা
img

আগরতলা বিমানবন্দরের বাইরে যাত্রী দুর্ভোগ! অভিযোগের পাহাড়, নীরব কেন প্রশাসন?

আগরতলা মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরের বাইরে যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে এশিয়ান টাইমসের প্রতিবেদন সম্প্রচারের পর আমাদের দপ্তরে বহু ফোন, বার্তা এবং মন্তব্য এসেছে। অভিযোগের ভাষা একটাই—"বিমানবন্দরের বাইরে নামলেই শুরু হয় দুর্ভোগ।"প্রশ্ন উঠছে—যদি এত মানুষ একই ধরনের অভিযোগ করেন, তাহলে সমস্যা কোথায়? আর যদি সমস্যা থেকেই থাকে, তাহলে সমাধান কোথায়? দেখুন এশিয়ান টাইমসের বিশেষ প্রতিবেদন। রাজ্যের প্রবেশদ্বার... আগরতলা বিমানবন্দর। একজন পর্যটক, একজন ব্যবসায়ী, একজন রোগী, একজন ছাত্র—সবাই এই বিমানবন্দর দিয়েই রাজ্যে প্রবেশ করেন। কিন্তু বহু যাত্রীর অভিযোগ, বিমানবন্দরের বাইরে পৌঁছেই তারা পড়ছেন বিশৃঙ্খলার মুখে। ভাড়া নিয়ে বিভ্রান্তি, অটো পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ—এমন নানা অভিযোগ উঠে এসেছে আমাদের কাছে। এশিয়ান টাইমসে প্রতিবেদন প্রকাশের পর বহু দর্শক ফোন করে বলেছেন, "এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার।" এখন প্রশ্ন... এই অভিযোগ কি আজকের? নাকি বহুদিনের? যদি বহুদিনের হয়, তাহলে এতদিনেও স্থায়ী সমাধান হলো না কেন? পরিবহন দপ্তর কি নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে? যাত্রীদের অভিযোগ শুনতে কি কোনো কার্যকর ব্যবস্থা আছে? নাকি অভিযোগ জমছে, কিন্তু ব্যবস্থা নেওয়ার গতি সেই জায়গাতেই আটকে আছে? রাজ্য সরকার পর্যটন, বিনিয়োগ এবং উন্নয়নের কথা বলছে। কিন্তু একজন পর্যটকের প্রথম অভিজ্ঞতা যদি অভিযোগ আর বিশৃঙ্খলায় ভরা হয়, তাহলে তার প্রভাব রাজ্যের ভাবমূর্তির ওপর পড়বে না? এই প্রশ্ন আজ শুধু এশিয়ান টাইমসের নয়—এই প্রশ্ন বহু সাধারণ যাত্রীর। আমরা কোনো পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করছি না। কিন্তু প্রশ্ন তুলছি— যদি অভিযোগ ভিত্তিহীন হয়, তাহলে এত মানুষ কেন একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলছেন? আর যদি অভিযোগে সত্যতার ভিত্তি থাকে, তাহলে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর কাছ থেকে দ্রুত সমাধান আসছে না কেন? এশিয়ান টাইমসের আবেদন খুবই স্পষ্ট। বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের নয়, এটি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ভোগান্তির প্রশ্ন। আমরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবহন দপ্তর এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি—অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখুন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন। কারণ রাজ্যের প্রথম ছাপটাই হওয়া উচিত শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা এবং যাত্রীবান্ধব পরিষেবা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এশিয়ান টাইমস এই বিষয়টির ওপর নজর রাখবে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্যও আমরা একই গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরব। প্রশ্ন কিন্তু রয়ে গেল—যাত্রীদের এই অভিযোগের উত্তর কবে মিলবে?