
জাতীয় রাজনীতিতে বড় চাঞ্চল্য। বিলুপ্তির পথে কি আম আদমি পার্টি? অপারেশন লোটাসের জোর ধাক্কায় দল ছাড়ছেন একের পর এক শীর্ষ নেতা—এমনই জল্পনা এখন তুঙ্গে। রাঘব চাড্ডা সহ সাতজন রাজ্যসভার সাংসদ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা। এর প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনেও। বিস্তারিত জানাচ্ছেন আমাদের প্রতিনিধি। একসময় দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মঞ্চ থেকে উঠে এসে জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন তুলেছিল আম আদমি পার্টি। দিল্লি ও পাঞ্জাবে ক্ষমতা দখল করে নিজেদের বিকল্প শক্তি হিসেবে তুলে ধরেছিল দলটি। কিন্তু এখন সেই দলই কি বিলুপ্তির পথে? সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জল্পনা ঘিরে এমন প্রশ্নই উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা, আম আদমি পার্টির অন্যতম পরিচিত মুখ রাঘব চাড্ডা সহ সাতজন রাজ্যসভার সাংসদ দল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। যদিও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, তবু এই খবর সামনে আসতেই আম আদমি পার্টির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি শীর্ষ নেতৃত্বের স্তরে এই ধরনের ভাঙন সত্যি হয়, তাহলে তা দলের সাংগঠনিক ভিত কাঁপিয়ে দিতে পারে। দিল্লি ও পাঞ্জাবে যে দল নিজেদের শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছিল, সেই দল এখন নেতৃত্ব সংকট, অন্তর্দ্বন্দ্ব এবং রাজনৈতিক চাপে দুর্বল হয়ে পড়ছে বলেই মত একাংশের। এদিকে এই জাতীয় রাজনৈতিক সমীকরণের প্রভাব পড়তে পারে পশ্চিমবঙ্গেও। সূত্রের খবর, বাংলার রাজনীতিতেও অনেক অসন্তুষ্ট নেতা নতুন রাজনৈতিক ঠিকানা খুঁজছেন। তৃণমূলের একাংশের নেতাদের মধ্যেও বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে রাজনৈতিক করিডরে জোর আলোচনা। বিশ্লেষকদের মতে, যখন জাতীয় স্তরে বিরোধী দল দুর্বল হয়, তখন তার প্রভাব রাজ্য রাজনীতিতেও পড়ে। বাংলার নির্বাচন সামনে রেখে এই ঘটনাপ্রবাহ বিজেপির পক্ষে মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা তৈরি করতে পারে বলেই মনে করছেন অনেকে। আম আদমি পার্টি কি ঘুরে দাঁড়াবে, না কি ভাঙনের স্রোতে আরও দুর্বল হবে—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। আর জাতীয় রাজনীতির এই বদলে যাওয়া সমীকরণ বাংলার ভোটে কতটা প্রভাব ফেলবে, এখন সেদিকেই নজর সবার।