
শরিকি লড়াইয়ে রক্তাক্ত এডিসি: গণতন্ত্রের উৎসবে এ কোন অশনি সংকেত? এডিসি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। শরিকি দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র বিভিন্ন এলাকা। ভোটের দিন সকাল থেকেই বিজেপি ও তিপ্রা মথার কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে ঝরল রক্ত। শাসকদলের এজেন্টদের বুথে বসতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ খোদ মন্ত্রীদের গলায়! ‘শরিক বনাম শরিক’— এই নজিরবিহীন লড়াইয়ের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। বিস্তারিত দেখুন এক বিশেষ প্রতিবেদনে। গণতন্ত্রের উৎসবে রক্তের দাগ! এডিসি নির্বাচন ঘোষণার পর থেকেই যে উত্তেজনার পারদ চড়ছিল, রবিবার ১২ এপ্রিল তা যেন আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়ল। কিন্তু এই লড়াই প্রথাগত শাসক বনাম বিরোধীর নয়; এ লড়াই যেন ‘ঘরের লড়াই’। একদিকে বিজেপি, অন্যদিকে তিপ্রা মথা। একই সরকারের দুই শরিক আজ একে অপরের মুখোমুখি। রাজনীতির কারবারিরা বলছেন— এক নৌকায় চড়ে দুই মাঝির বিপরীতমুখী দাঁড় টানার ফল ভোগ করছে সাধারণ মানুষ।মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা বনাম প্রদ্যুৎ কিশোর দেব বর্মনের পালটা হুংকার— ভোটের আগে থেকেই রাজনীতির ময়দান ছিল কুস্তির আখড়া। রবিবার ভোট শুরু হতেই দেখা গেল সেই সংঘাতের বাস্তব চিত্র। অভিযোগ উঠেছে, খোদ শাসকদলের প্রার্থীদেরই আক্রমণের মুখে পড়তে হয়েছে। অভিযোগের তির শরিক দল তিপ্রা মথার দিকে। কোথাও প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর, কোথাও বাড়িঘরে হামলা— দিনভর অরাজকতার সাক্ষী থাকল রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত।প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের দাবি করা হলেও, বিরোধীদের ভাষায়— ‘আগুন লাগার পর জল ঢেলে কি আর ঘর বাঁচে?’ খোদ হেভিওয়েট মন্ত্রীরা যখন বুথে এজেন্ট বসাতে না পারার অভিযোগ তোলেন, তখন সাধারণ ভোটারের নিরাপত্তা কোথায়— সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।