ত্রিপুরা
img

এডিসি এলাকায় শিক্ষার বেহাল ছবি! স্কুলে গিয়ে হতবাক জেলা শাসক

এডিসি এলাকার সরকারি স্কুলে হঠাৎ পরিদর্শনে গিয়ে উঠে এল উদ্বেগজনক চিত্র। ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার মান থেকে শুরু করে শিক্ষকদের দক্ষতা—সবকিছু দেখেই বিস্মিত জেলা শাসক। কোথায় সমস্যা? কীভাবে ফিরবে সরকারি শিক্ষার মান? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই প্রশাসনের এই বিশেষ অভিযান। মোহনপুর মহকুমার লেফুঙ্গা ব্লকের ইন্সপেক্টর অফ স্কুল ওয়াটলোক তুইথু-এর অধীন একাধিক সরকারি বিদ্যালয়ে শুক্রবার আচমকা পরিদর্শনে যান পশ্চিম ত্রিপুরার জেলা শাসক ডঃ বিশাল কুমার। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এডিসির প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি, মোহনপুর মহকুমা শাসক শান্তনু বিকাশ দাস, ইন্সপেক্টর অফ স্কুল এবং সংশ্লিষ্ট ব্লকের বিডিওরা।পরিদর্শনে উঠে আসে উদ্বেগজনক ছবি। একাধিক বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীর উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত কম। অথচ শিক্ষক-শিক্ষিকার সংখ্যা প্রায় ছাত্র-ছাত্রীদের সমান। কিন্তু শিক্ষার মান দেখে বিস্মিত হন আধিকারিকরা। অভিযোগ, অনেক ছাত্র-ছাত্রীই দুটি লাইন পর্যন্ত ঠিকভাবে পড়তে পারেনি।সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয়, জেলা শাসক এক শিক্ষককে দুটি লাইন পড়ে শোনাতে বললে তিনিও তা সঠিকভাবে পড়তে ব্যর্থ হন। এই ঘটনায় সরকারি স্কুলগুলির শিক্ষার গুণগত মান ও শিক্ষকদের দক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জেলা শাসক জানান, এডিসি প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে কাজ করা হবে। পরিদর্শনে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে একাধিক গুণগত ত্রুটি ধরা পড়েছে। সেগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।জেলা শাসকের মতে, সরকারি স্কুলে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ক্রমশ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ শিক্ষকদের দক্ষতার ঘাটতি। তাই শুধু পরিকাঠামো নয়, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। এই পরিদর্শনের পর কি বদলাবে এডিসি এলাকার সরকারি স্কুলগুলির শিক্ষার মান? নাকি আরও সামনে আসবে শিক্ষাব্যবস্থার অজানা বাস্তব? এখন সেদিকেই নজর অভিভাবক থেকে প্রশাসন—সবার। ছাত্র পড়তে পারছে না, শিক্ষকও হোঁচট—শিক্ষাব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত