
অভাব অনটনের সংসার।আয় উপার্জন নেই বললেই চলে। স্বামী, স্ত্রী দীর্ঘদিন যাবত শারীরিক অসুস্থ। অসুস্থতার জনিত কারণে কর্মহীন হয়ে পড়ে গৃহকর্তা। আর এই অশান্তির জেরেই একসাথে স্বামী স্ত্রীর বিষপান। স্বামীর মৃত্যু হলেও স্ত্রী এখনো চিকিৎসাধীন হাসপাতালে।ঘটনা খোয়াইয়ের সোনাতলা মহাবীর চৌমুহনী এলাকায়।পেশায় স্বর্ণ রৌপ্যের কারিগর।আজ এ দোকানে কাল ওই দোকানে ঘুরে ঘুরে কাজ করেন গৃহকর্তা সুব্রত দেবনাথ। বিগত এক বছর ধরে সুব্রত দেবনাথ ও তার স্ত্রী অসুস্থ ছিল।রুজি রোজগার তলানিতে।কাজেরও সেরকম ব্যবস্থা নেই।সংসার চলছিল না।স্বামী স্ত্রী ছাড়াও তিন বছরের একটি মেয়েও রয়েছে ওদের সংসারে।বাজারে ধারদেনা ও ছিল বলে জানা যায় । ঋণের টাকা পরিশোধ করার জন্য পাওনাদারদের আনাগোনা ও ছিল বাড়িতে। প্রায় দিনই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো সাংসারিক বিষয় নিয়ে।শারীরিক অসুস্থতাও ছিল সুব্রতের। টাকার অভাবে সঠিকভাবে চিকিৎসা ও করাতে পারছিলো না দুজনেই।রবিবার রাত বারোটা নাগাদ স্বামী স্ত্রীর মধ্যে সাংসারিক বিষয় নিয়েই বিবাদ শুরু হয় ঘরের মধ্যে।চীৎকার চেঁচামেচি শুনে পাশের ঘর থেকে সুব্রতের দুই ভাই ও মা ছুটে এসে ঝগড়া থামানোর চেষ্টা করে।কিন্তু এরমধ্যেই সুব্রত দেবনাথ হাতে বিষের বোতল তুলে নিজের গলায় ঢেলে দেয় ।সাথে সাথে স্ত্রী মল্লিকা দেবনাথও স্বামীর হাত থেকে বিষের বোতল কেড়ে নিয়ে তার নিজের মুখে ঢেলে দেয়।ফলে দুজনেই অসুস্থ হয়ে পড়ে। তড়িঘড়ি খোয়াই জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সাথে সাথেই দুজনকেই রেফার করে দেওয়া হয় আগরতলা জি বি পি হাসপাতালে।সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে স্বামী সুব্রত দেবনাথ।স্ত্রী মল্লিকা দেবনাথ এখনো চিকিৎসাধীন,মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।