ত্রিপুরা
img

প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় মৃত রোগী কানধেনু আইএলএস হাসপাতালে

মৃত রোগীর চিকিৎসা করিয়ে ৪৫ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দিল রাজধানীর বিশ্বমানের আইএলএস হাসপাতাল ।এমনটাই অভিযোগ মৃত রোগীর পরিবার-পরিজনদের ।আরো অভিযোগ, মৃতার ডেথ সার্টিফিকেট প্রদান নিয়েও চূড়ান্ত তালবাহানা করে আইএলএস হাসপাতাল।

চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানে নয় ,ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আখড়া হিসেবে পরিগণিত হয়েছে রাজ্যের তথাকথিত বিশ্বমানের আইএলএস হাসপাতাল ।মৃত রোগীকে কামধেনু বানিয়ে রোগীর পরিজনদের পকেট কাটতেই ব্যস্ত এই হাসপাতাল ।এমনই এক গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেল রবিবার। এদিন সকালে পেচারথলের বাসিন্দা অমল সরকারের স্ত্রী অনামিকা মল্লিক সরকারের কার্ডিও অ্যাটাক হয় ।সাথে সাথে তাকে জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অবস্থা বেগতিক বুঝে গৃহবধূ অনামিকার পরিবারের লোকজনরা তাকে আইএলএস হাসপাতালে নিয়ে যান ।আর রোগীকে আইএলএস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াটাই কাল হয়ে দাঁড়ায় তাদের ।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাথে সাথে রোগীকে ভেন্টিলেশনে পাঠায় ।দেড় ঘন্টা বাদে পরিবারের লোকজনরা রোগীকে দেখতে ভেতরে যান ।তখন তাদের সন্দেহ হয় যে রোগী আর বেঁচে নেই ।বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তারা জানান ।কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় রোগীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হলেও রোগী এখনো বেঁচে রয়েছেন।পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে রোগীর পরিজনরা রোগীকে পুনরায় জিবি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন ।এতে বিপত্তি বাধে। এক নার্স রোগীর এক আত্মীয়ের সাথে বাজে ব্যবহার শুরু করেন। শেষপর্যন্ত রোগীর পরীজনরা রোগীকে ভেন্টিলেশন থেকে বের করে নিয়ে আসার কথা জানান ।তখন রোগীর ডেথ সার্টিফিকেট প্রদান নিয়ে তালবাহানা শুরু করে আইএলএস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ।এদিন আইএলএস হাসপাতালের সামনে মৃত গৃহবধু অনামিকা মল্লিক সরকারের স্বামী অমল সরকার এই অভিযোগ করছেন।তিনি জানান, ২ ঘন্টা আগেই রোগীর মৃত্যু হয়েছে ।অথচ দুই ঘন্টা ধরে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে আইএলএস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এক্সরে করানো হচ্ছে, ইসিজি করানো হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষ ৪৫ হাজার টাকার একটি বিল ধরিয়ে দেয় ।তিনি জানান, তিনি ৪৫ হাজার টাকা দিতে রাজি ।কিন্তু মৃতার ডেথ সার্টিফিকেট দেওয়া হোক। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডেথ সার্টিফিকেট দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।

উল্লেখ্য আইএলএস হাসপাতালের বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ নতুন কিছু নয় ।শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এই ধরনের বহু অভিযোগ রয়েছে ।বেশ কিছু অভিযোগ থানায় লিপিবদ্ধ করাও হয়েছে ।কিন্তু এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগেরই তদন্ত হয়নি ।সব অভিযোগের তদন্তই রহস্যের কালো গহ্বরে হারিয়ে যায় ।সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে প্রশাসনেরও কোনো হেলদোল নেই । এই সমস্ত ঘটনায় পুলিশ,প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে একটা গভীর প্রেমের গটবন্ধন রয়েছে বলে বিভিন্ন তথ্যভিজ্ঞ মহলের অভিমত।রবিবারের এই ঘটনা নিয়ে আইএলএস হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনা ছড়ায় ।খবর পেয়ে এনসিসি থানার পুলিশ হাসপাতালে ছুটে এসে পরিস্থিতি আয়ত্তে আনে।